কটিয়াদীতে স্কুলছাত্রী স্মৃতির মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি হত্যা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির (১৬) মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। 

এদিকে স্মৃতি হত্যার ঘটনাকে অপমৃত্যু দেখিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও অভিযোগ তার পরিবারের। ‎ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এই মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় এবং অভিযুক্তদের আটক না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

‎শনিবার (৭ মার্চ) লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) দুজনই একই স্কুলের শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। এটি নিয়ে স্কুলের শিক্ষকরা তাদের অনেক সময় বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

‎তারা আরও জানায়, সর্বশেষ গত ৩ জুন ২০২৫ তারিখে বন্ধু আকরামের ডাকে বাড়ি ছাড়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি। এরপর মেয়ের পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস করছিল। 

এদিকে ছোটোবেলা থেকেই স্মৃতি তার দাদার বাড়িতে থাকত। অনেক আগেই তার মা-বাবার বিচ্ছেদ হয় এবং তারা আলাদা স্থানে বসবাস করছেন। ফলে কেউই নিয়মিতভাবে মেয়ের দেখাশোনা করতেন না।

‎সর্বশেষ ৪ মার্চ বুধবার ভোরে আকরামের বাড়ি থেকেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আকরামসহ তার পরিবারের সবাই গাঢাকা দিয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার বলেন, এই মৃত্যুকে আমরা স্বাভাবিক মনে করছি না। প্রায় আট মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। তখন আমরা একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার ঝুলন্ত লাশ দেখে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শরীরে আঘাতের দাগ ছিল। 

তিনি আরও বলেন, আমরা হত্যা মামলা করতে গেলেও আমাদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না। লাশ উদ্ধারের সময় একটি স্বাক্ষর নিয়ে এটিকে অপমৃত্যু মামলা দেখানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। 

এসময় স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদি হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।  

‎এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মামলা নেওয়া হচ্ছে না—এ অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আমরা বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে দেখছি।