দৌলতদিয়ায় ডুবে যাওয়া বাস থেকে ২৩ লাশ উদ্ধার, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় টেনে তোলা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সোয়া ১১টার দিকে বাসের একটি অংশ দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি পানির ওপরে তোলা সম্ভব হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৫ জনের লাশ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাসের ভেতর থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনতা দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ২২ জন, নৌবাহিনীর ডুবুরি ১ জন এবং স্থানীয়রা ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

bus2

বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী আবদুস সালাম গণমাধ্যমকে জানান, ফেরি ঘাটে আসা মাত্র বাসটি হঠাৎ চলতে শুরু করে সরাসরি নদীতে চলে যায় এবং চালক অনেক চেষ্টা করেও গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।

bus1

কাউন্টার মাস্টারের তথ্যমতে, বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানোর পর বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলো।

ঘটনাস্থলে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।