প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ফলক উন্মোচন করেছেন। প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছর পর বগুড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা পেলো। এটি দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর ভবনে তিনি এ ফলক উন্মোচন করেন।
ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকদিনের দাবি ছিল, সেটি আজ পূরণ হলো। বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করলো। বগুড়াকে একটি মডেল টাউনে পরিণত করার যে দাবি তা সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সেখানে গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই বগুড়া পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। উত্তরাঞ্চলের পুরনো পৌরসভার মধ্যে এটি অন্যতম। এ পৌরসভার অধীনে ২১টি ওয়ার্ড ছিল। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ৪ লাখ।
২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে বগুড়া পৌরসভার চারপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে এর আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়। তখন সংস্থাটি ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয়।
সে সময় এ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে গত দুই দশকে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করে। কিন্তু বগুড়া দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হলেও তা পৌরসভা হিসেবেই থেকে যায়।
আগে থেকে থাকা ১২টি সিটি কর্পোরেশন হলো—ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ।