কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাত মাসের শিশু মুজাহিদকে হত্যার পর তার মা মামলার বাদী তাসলিমা আক্তারসহ পরিবারকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাবা মেরাজের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিনগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী গ্রামের পুরানগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আগুনে দু'টি টিনের ঘরসহ আসবাবপত্র ও নগদ টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্ব কান্দা এলাকার বাসিন্দা মিরাজ মিয়া পেশায় একজন পাদুকা কারিগর হলেও সে একজন মাদকাসক্ত। ফলে পারিবারিক কলহের জের ধরে মিরাজ ও তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে তাসলিমা তার সাত মাসের সন্তান মুজাহিদকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।
পরদিন ১৬ এপ্রিল শিশু মোজাহিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে দাদী রাবেয়া বেগম ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে বাবা মিরাজ মিয়া শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে জানায়, সে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছে। এই ঘটনায় মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অবশেষে গেলো ২৩ এপ্রিল একটি ডোবা থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় শিশুর মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে তারই স্বামী মিরাজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নিহত শিশুর নানা আক্তার হোসেন বলেন, আমার নাতিকে ওরা আগে হত্যা করেছে, এখন আমাদের সবাইকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। বড় মেয়ের ছেলে রাতে বমি করায় তারা জেগেছিল, নয়তো আজ আমরা কেউ বেঁচে থাকতাম না। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি, সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এ কথা বলেই তিনি হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এছাড়াও তাসলিমার বড় বোন আকলিমা বলেন, রাতে চালের ওপর কিছু ছিটানোর আওয়াজ এবং উৎকট গন্ধে তার সন্দেহ হয়। দরজা খুলে বেরোতেই তিনি মিরাজের মুখোমুখি হন। মিরাজ তাকে তাসলিমা মনে করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, আমরা রাতে খবর পাই নিহত শিশুটির
নানার বাড়িতে আগুন লেগে আসবাবপত্রসহ দুইটি ঘর পুড়ে যাই। এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং আগুন কীভাবে লেগেছে তার কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও এই ঘটনা বা পূর্বের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত রয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।