পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ওই ব্যবসায়ীকে জখম করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের গহিনখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের মো. রুবেল (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী রাসেল হাওলাদার গহিনখালী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাড়ির সামনে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রাসেল। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বসতঘরের ভেতরে শব্দ পেয়ে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ঘরের ভেতরে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে দেখতে পান।
এ সময় চিৎকার করলে তারা রাসেলের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে আহত করে। তার স্ত্রী রিনা বেগম চিৎকার করলে তাকেও বেঁধে রাখা হয়।
পরে দুর্বৃত্তরা ঘরের শোকেশ ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের বাজার মূল্য আনুমানিক আট লক্ষাধিক টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর হামলায় আহত ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে বলে জানায় তার পরিবার।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাসেলের ভাই হাসনাইন আহম্মেদ রাব্বী বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. রুবেল ছাড়াও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে প্রধান অভিযুক্ত করে মামলা করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।