রাঙ্গাবালীতে সেতু ধসে আহত পথচারী, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ স্লুইস খালের ওপর নির্মিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে। এ সময় সেতুর ওপর থাকা ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক পথচারী আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

রোববার (৩১ মে) বিকেলের দিকে মধ্য চরমোন্তাজ ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা সেতুটি হঠাৎ ভেঙে খালে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি গত ৫ থেকে ৬ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আর গত তিন বছর ধরে এটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে এর ওপর দিয়ে চলাচল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরও দুই গ্রামের মানুষ প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে সেতুটি ব্যবহার করতেন। দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেতুর বিভিন্ন অংশে রশি বেঁধে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলেন।

মধ্য চরমোন্তাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, অনেক বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত সেতুটি ভেঙেই পড়ল। এখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট হবে। তাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি সরকারের কাছে। 

দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মামুন বলেন, এই সেতু না থাকলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এখন বাজার, মসজিদ বা জরুরি কাজে যেতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের অন্য সেতু ব্যবহার করতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে। 

একই গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, দুই গ্রামের মানুষের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেতু। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সবাই এই পথ ব্যবহার করে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

এলাকাবাসী জানান, সেতুটি ভেঙে পড়ায় দুই গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক এবং অসুস্থ রোগীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু ইউসুফ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভেঙে পড়া সেতুটি কোন দপ্তরের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সেতুটি তাদের দপ্তরের আওতাভুক্ত নয়।