শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২৯, জখম ছয় গবাদিপশু

শেরপুরের নকলায় পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় মাঠে চরতে থাকা ছয়টি গবাদিপশুকেও কামড়ে জখম করেছে কুকুরটি।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই একটি পাগলা কুকুর পৌর শহরের গ্রীণরোড, দড়িপাড়া, উত্তর কায়দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে এদিক-ওদিক দৌড়াতে থাকে। সামনে যাকেই পেয়েছে, তাকেই কামড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, মাঠে চরতে থাকা গবাদিপশুকেও কামড়িয়েছে। 

আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ জন পৌর শহরের গ্রীণরোড ও দড়িপাড়া এলাকার এবং ১৪ জন উত্তর কায়দা গ্রামের।

পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে যাদের ক্ষত বেশি ছিল তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

এদিকে, ঘটনার পর বিকেলেই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

স্থানীয় জলিল মিয়া জানান, আজ সকালে আমার মেয়ে নকলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়। পরে তাকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভ্যাকসিন দেই।

অপর বাসিন্দা রহিম উদ্দিন বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত পাগলা কুকুরগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। যাতে নতুন করে এমন ঘটনা না ঘটে।

নকলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নকলা পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা এআরভি (অ্যান্টি-রেবিস) ভ্যাকসিন হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে এবং আহত ব্যক্তিকে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে থেকে কোনো ওষুধ কিনতে হলে সেক্ষেত্রেও নকলা পৌরসভা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।

সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহিন বলেন, সেখানে তাদের জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী টিকা এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কুকুরের ভ্যাকসিন কয়েক বছর যাবৎ বন্ধ থাকায় ঝুঁকি বেড়েছে। প্রাণী সম্পদ বিভাগ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।