বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শেখ মুরাদসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রধান আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত প্রায় ৩টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে সদর মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শেখ মুরাদ, আবু তাহের দীপ, মো. হাফিজুর রহমান ও মো. শিপন শেখ।
সোমবার বিকেলে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্তর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে প্রধান আসামি শেখ মুরাদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন রাত ১০টা থেকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রধান আসামি মুরাদ নিহত আইনজীবী শান্তর সঙ্গে ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা, হত্যার উদ্দেশ্য এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ আশা করছে।
এর আগে গত ২৫ জুলাই গভীর রাতে আদালতের কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত। রাত প্রায় ১টার দিকে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী গ্রামের তেঁতুলতলা মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহত অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত (৪২) বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার মৃত তোরাফ হোসেনের ছেলে। তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন।