মেহেরপুরে মাটি খুঁড়তেই মিললো ৯৬ মাইন, নিষ্ক্রিয় করলো সেনাবাহিনী

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা ৯৬টি মাইন সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে যশোর সেনানিবাসের বোম ডিসপোজাল টিম।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে তিনটায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিরাপদ স্থানে নিয়ে একে একে মাইনগুলো ধ্বংস করা হয়। মাইন নিষ্ক্রিয় করার সময় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে বেতবাড়িয়া এলাকা। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ধ্বংসের পর স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এর আগে শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের পরিত্যক্ত জমিতে মাটি কাটার সময় মাইন সদৃশ বেশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও বিজিবি এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়।

ঘটনাস্থলটি ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাইনগুলো দেখতে অনেকটা পুরোনো হলেও এগুলো সক্রিয় কি না, তা নিয়ে তৈরি হয় উদ্বেগ। দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ভয় আরও বাড়তে থাকে।

সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যশোর সেনানিবাসের বোম ডিসপোজাল টিম। বিশেষজ্ঞ দল উদ্ধার করা মাইনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে ঝুঁকি এড়াতে সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করা হয়। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

স্থানীয় বিপুল হোসেন জানান, এত বছর ধরে জমিটি পরিত্যক্ত থাকলেও সেখানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক পড়ে আছে—এমন ধারণা কারও ছিল না। মাটি কাটার সময় মাইনগুলো বেরিয়ে আসার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন তারা। বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষ যেন ঘটনাস্থলের কাছে না যায়, সেজন্য স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

পুলিশের ধারণা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কৌশলগত কারণে এসব মাইন ওই এলাকায় পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে মাইনগুলোর প্রকৃত উৎস ও কত বছর আগে এগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মেহেরপুর গাংনী থানার ওসি তদন্ত শিমুল কুমার দাস জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আরও কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ওই এলাকায় আরও অনুসন্ধান চালানো হবে।

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক পর বিপুল পরিমাণ তাজা বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তেমনি নিরাপদে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে। 

তাদের দাবি, পরিত্যক্ত জমি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরও সতর্কভাবে অনুসন্ধান চালানো হলে ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বলে ধারণা করা ৯৬টি মাইন দীর্ঘ ৫৫ বছরেরও বেশি সময় মাটির নিচে থাকার পর অবশেষে নিষ্ক্রিয় হলো। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে রক্ষা পেল বেতবাড়িয়াবাসী।