কুয়াকাটায় জেলেদের জালে বিরল বক্স ক্রাব, ছেড়ে দেয়া হলো নদীতে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির বক্স ক্রাব বা লজ্জাবতী কাঁকড়া। তবে অদ্ভুত দেখতে কাঁকড়াটি খাওয়া যায় কি না, তা নিয়ে সংশয়ে জেলেরা এটি বিক্রি না করে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ছেড়ে দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কলাপাড়ার মৎস্য বন্দর মহীপুরে ইলিয়াশ মাঝির ট্রলারের জেলেরা অন্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি নিয়ে আসেন আখি ফিস নামের একটি মৎস্য আড়তে। 

আখি ফিসের মো. আলামিন জানান, অন্য মাছের সঙ্গে কাঁকড়াটি জেলেদের জালে ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না।

বক্স ক্রাবের খোলস গোল ও বেশ চওড়া। সাধারণ কাঁকড়ার তুলনায় এর শরীরও অনেকটা গোলাকার। শক্ত ও উঁচু খোলসের ওপর গম্বুজের মতো অংশ রয়েছে। কালচে-ধূসর ছোট ছোট দাগ এবং দুই পাশে বড় ও শক্ত দাঁড়া এ কাঁকড়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বক্স ক্রাব উষ্ণমণ্ডলীয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামুদ্রিক কাঁকড়া। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি রয়েছে। সাধারণত বালুময় বা কাদাময় নরম সমুদ্রতল এবং কখনো প্রবাল প্রাচীর-সংলগ্ন এলাকায় ১০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় এদের পাওয়া যায়। কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে এ প্রজাতির কাঁকড়া সচরাচর দেখা যায় না। এ কারণে স্থানীয়রা সাধারণত এগুলো খায় না। তবে যেসব এলাকায় বেশি পাওয়া যায়, সেখানে এটি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এ কাঁকড়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যন্ত শক্ত ও চওড়া দুটি দাঁড়া, যা সামনে ভাঁজ করে মুখ ঢেকে রাখতে পারে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় এ ধরনের কাঁকড়ার উপস্থিতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

তিনি বলেন, উপকূলে এ ধরনের কম পরিচিত সামুদ্রিক প্রাণী পাওয়া গেলে শুধু আহরণ না করে এর প্রজাতি, বিস্তৃতি ও প্রাচুর্য নথিবদ্ধ করাও গুরুত্বপূর্ণ।