অদম্য মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নকে সঙ্গী করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। ছোটোবেলা থেকেই তার স্বপ্ন—ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়ায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে সংসারের নিত্যদিনের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে জিপিএ-৫ পেয়েও ফারজানার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা।
ফারজানার এই সংগ্রামের গল্প নিয়ে গতকাল সোমবার একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরের নজরে আসে। এরপর ফারজানার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফারজানা আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আশরাফ এবং পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফারজানার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ভবিষ্যতেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। অর্থের অভাবে যাতে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেমে না যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক বলেন, ফারজানা আক্তারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে জানার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নুরুল হক নূর মহোদয় ও মান্যবর জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ফারজানা যেন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে তার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছাতে পারে, এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও যখন অর্থের অভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তখন প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছে ফারজানা ও তার পরিবার।
ফারজানার চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে একদিন চিকিৎসক হওয়া। আর সেই স্বপ্ন পূরণে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা যেন আর বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিই এখন তার পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা।