ইয়াবাসেবী ছেলেকে পুলিশে দিলেন বাবা

মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথে যাওয়া সন্তানের অত্যাচারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পুরো পরিবারের। বুঝিয়ে, শাসন করে, কোনোভাবেই যখন ঘরোয়াভাবে শুধরানো যাচ্ছিল না, তখন আর কোনো উপায় না দেখে চরম এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন জন্মদাতা পিতা!

গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিজ হাতে ধরে মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খোকা মিয়া। আর এর পরপরই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সেই কুপুত্রকে তিন মাসের কারাদণ্ড শুনিয়ে দেয়া হলো।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়। সাজাপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদ (২৬) বেশ কিছুদিন ধরেই ইয়াবায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। ঘরের মধ্যে বসেই অবাধে চলত তাঁর মাদক সেবন। নেশার টাকার জন্য পরিবার তো বটেই, পুরো পাড়া-প্রতিবেশীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন তিনি।

দুপুরে সহ্যের বাঁধ ভাঙলে বাবা খোকা মিয়া গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তোফায়েলকে ধরে আটক করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে।

এরপর তোফায়েলকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা পরিষদে, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সকিনা আক্তার। বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে তোফায়েল নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন।

তবে গল্পে নাটকীয় মোড় আসে তখনই, যখন সাজা পাওয়ার ভয়ে বা অনুশোচনায় তোফায়েল এলাকাভুক্ত অন্য মাদক ব্যবসায়ীদের নামও বিচারকের কাছে ফটাফট ফাঁস করে দেন এবং তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন! আদালত তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

ছেলের এই পরিণতিতে বুকভাঙা কষ্ট থাকলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তোফায়েলের বাবা খোকা মিয়া জানান, ছেলের কর্মকাণ্ডে আমরা আর পারছিলাম না। বাধ্য হয়েই কলিজার টুকরাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হলো, যাতে সে অন্তত জেলখানায় গিয়ে হলেও শুধরাতে পারে।

এদিকে ইউএনও সকিনা আক্তার জানান, একটি পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বাবার এমন সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, কেবল মাদকসেবীকে শাস্তি দিলেই সমাধান হবে না; তোফায়েলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অঞ্চলের মূল মাদক কারবারিদেরও খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।