বোন জামাই ঘরে তোলার আনন্দঘন মুহূর্ত যে এভাবে রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা হয়তো লুদরপুর গ্রামের কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি! ছোট বোনের বিয়ের দাওয়াত নাকি দেয়া হয়নি সময়মতো, শুধুমাত্র এই সামান্য ‘জিদ’ আর ‘মান-অভিমানের’ মাশুল দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে রক্তসম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়ে বড় ভাই নাজিম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তার চাচার ছেলেরা।
শনিবার দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় ঘটে যায় এই চাঞ্চল্যকর ও বিয়োগান্তক ঘটনা। নিহত নাজিম উদ্দিন লুদরপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয় ও পুলিশ সদস্যরা জানান, শুক্রবার পরম ধুমধামে অনুষ্ঠিত হয় নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে। তবে কোনো কারণে বিয়ের মূল দিনে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। আর তাতেই বাধে বিপত্তি!
ক্ষোভে-অপমানে ফুঁসতে থাকে মাসুমের পরিবার। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে শনিবার সকালে সোজা চাচাতো ভাই মাসুমের বাড়িতে ছুটে যান নাজিম উদ্দিন। ভেবেছিলেন একটু হাসিমুখ আর মিষ্টি কথায় বরফ গলবে। কিন্তু কোথায় কী!
দাওয়াত নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই ঘরের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতের মতো ফেটে পড়ে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে মাসুম ও তার ভাইয়েরা দা-ছুরি নিয়ে সোজা ঝাঁপিয়ে পড়ে নাজিম উদ্দিনের ওপর। কোপাকুপির পর রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে মাটিতে ফেলে রেখে সটকে পড়ে ঘাতকরা।
পরে স্থানীয় ও স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে; হাসপাতালের কর্তব্যে থাকা চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের অপর এক চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ কান্নায় ভেঙে পড়ে আক্ষেপ করে বলেন, শুধুমাত্র কালকের (শুক্রবার) বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় অহংকার আর রাগের বশে মাসুমের নেতৃত্বে আমার ভাইকে কুপিয়ে শেষ করে ফেলা হলো!
খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি জানান, পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সামান্য একটি বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে হওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যার রহস্য উদঘাটনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘাতকদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।
