সুনামগঞ্জের ছাতকে হত্যা মামলার আসামিকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্য ফেসবুক ‘লাইভে’ প্রচারের ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিনের কক্ষে গ্রেপ্তার আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের দৃশ্য প্রচার করা হয়।
তবে একাত্তরকে ওসি জানান, ভিডিওটি লাইভ নয় বরং রেকর্ড করে পরবর্তীতে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে কয়েকজনকে এরিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ভিডিওটি প্রচারের এক ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়।
উপস্থিত লোকদের মধ্যে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন ওসি।
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি তদন্তে কমিটি করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কোনোভাবেই গ্রেপ্তার আসামির জবানবন্দি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ নেই।
সূত্রমতে, ছাতক থানার ওসির কক্ষে আসামি সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওসি নাজিমউদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং একজন ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের মোল্লাআতা গ্রামের জহির আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আখলাকুর রহমান আখলাদ (৩৫) খুন হওয়ার ঘটনায় সোহাগ নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে আখলাদ গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার পথে খুন হন। গ্রামের পাশে ধানি জমিতে তার লাশ পাওয়া যায়।
পুলিশ এ ঘটনায় বুধবার রাতে গোবিন্দনগর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে আবু সুফিয়ান সোহাগ ও বিশ্বনাথ উপজেলার দিঘলী-চাকলপাড়া গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে আলীম উদ্দিনকে আটক করে।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে মুরগির বাচ্চা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধ খুন
পরদিন এ মামলায় আবু সুফিয়ান সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতের কথা ‘স্বীকার করেছেন’। তারা আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছেন।
হত্যার ঘটনায় জড়িত পরিকল্পনাকারীসহ অন্যদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি নাজিম উদ্দিন।
একাত্তর/আরএ