ভোলায় ইলিশ শিকারের হিড়িক, কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি

বাংলা নববর্ষ বরণে সকালে বাঙালির পাতে পান্তার সঙ্গে ইলিশ এক রকম ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। তবে এমন ঐতিহ্যে লাগাম টেনেছে সরকার। বলছে, এটি কোনো ঐতিহ্য হতে পারে না। তাই ইলিশ রক্ষায়, ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ভোলার মেঘনা তেঁতুলিয়ার ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য বিভাগ। কিন্তু বেশি দামে বিক্রির আশায় ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলছে ইলিশের শিকার। বাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দামও কয়েকগুণ বেশি।

মাছঘাটগুলোতে সরেজমিন, একের পর এক নৌকা ভিড়তে দেখা গেছে। নৌকা থেকে মাছ নিয়ে ঘাটগুলোতে জেলেরা হাঁকডাক দিয়ে আড়তদার আর পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। 

দেশের একমাত্র বৃহত্তর দ্বীপ জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া থেকে দেশের চাহিদার প্রায় ৩৩ ভাগ ইলিশ মাছ আহরণ করা হয়। তাই ভোলার সুস্বাদু ইলিশ মাছের খ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। বৈশাখের সময় এই ইলিশ মাছের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। 

কিন্তু ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে মনপুরা উপজেলার চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকায় গত পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস সরকার সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য বিভাগ। 

অন্য সময় যেসব সাইজের ইলিশ এক হালি বিক্রি হতো চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়, সেই ইলিশে এখন হালি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। 

এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায়। ফলে অধিক লাভের আশায় জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলছেন। তবে জেলেরা বলছেন, পেটের দায়ে বাধ্য হয়েই নদীতে ইলিশ শিকার করছেন তারা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, পহেলা বৈশাখে আমরা ইলিশকে উৎসাহিত করতে চাই না। এর সঙ্গে ইলিশের কোনো যোগসূত্র নেই। আমরা পান্তা ইলিশ নয়, অন্য কিছু খাবো। এটা কোনো ট্র্যাডিশন হতে পারে না। এখন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। সুতরাং পহেলা বৈশাখের কারণে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।  কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।