পিরোজপুরের এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। পরকীয়ায় বাধা দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পুত্রবধূ ও তার মামাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) সকালে জেলার জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম নমিতা রানী (৮০)। তিনি ওই এলাকার রাধে শ্যামের স্ত্রী।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরের খাটের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন নমিতা রানী। রাত ৯টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন রাধে শ্যাম। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি খাটের কাছে গিয়ে মুখের ওপর থাকা কাঁথা সরিয়ে দেখেন নমিতা রানী মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। এ সময় খাটের পাশে তার হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া নিহতের গলায় ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, পুত্রবধূ বন্যা রানী পালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কামাল পঞ্চায়েতের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। কামাল নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো। এই অনৈতিক সম্পর্কে প্রায় সময়ই বাধা দিতেন শাশুড়ি নমিতা রানী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুত্রবধূ বন্যা রানী, তার মামা তাপস দেবনাথ ও কামাল পঞ্চায়েত মিলে নমিতা রানীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে কামাল পঞ্চায়েত পলাতক রয়েছে। নিহতের স্বজনেরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ মহব্বত খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য আমরা ওই গৃহবধূ ও তার মামাকে আমাদের হেফাজতে এনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।