লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পড়তে আসা এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতনের দৃশ্য নিজেই ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এক মাদ্রাসাশিক্ষক। ভিডিওটির ক্যাপশনে ওই শিক্ষক লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’ শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণ করার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইমরান হোসেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে প্রায় দুই মাস আগেই ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে কঠোর শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ছিলো।
বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়ে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। রায়পুর থানা-পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক সংগঠন ‘আলফা স্টার’-এর চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানবাধিকারকর্মী জাকির মাহমুদ জুয়েল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ভিডিও প্রকাশ করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি শিশুর মর্যাদা ও অধিকারও ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সচেতন নাগরিকেরাও এই ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে অভিযুক্ত শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। লাইভে তার দাবি, শিশুটিকে মারধর করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিলো না; তবে নিজের আচরণ যে ভুল ছিলো, সেটি তিনি স্বীকার করেন।
