আকাশ ছুঁইছুঁই টাওয়ারের চূড়ায় ব্রাজিলের পতাকা!

বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর আমেরিকার মাটিতে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। আর বিশ্বমঞ্চে বল গড়ানোর আগেই ওপার বাংলার মতো এপার বাংলাতেও শুরু হয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদের চেনা উন্মাদনা। তবে এবার প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার এক দুর্গম চরাঞ্চলে যা ঘটল, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য এবং শিউরে ওঠার মতো!

কোনো বাড়ির ছাদ বা বাঁশের খুঁটি নয়, আক্ষরিক অর্থেই আকাশ ছুঁইছুঁই একটি মোবাইল টাওয়ারের একদম সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে ব্রাজিলের বিশাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন উন্মাদ সাম্বা ভক্ত।

বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনাটি ঘটে। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই জনপদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল মোবাইল টাওয়ারের মাথায় এখন দূর দূরান্ত থেকে দেখা যাচ্ছে সবুজ-হলুদ রঙের ব্রাজিলের পতাকা।

তবে ফুটবলপ্রেমী এই যুবকদের দেশপ্রেমও ছিল প্রশংসনীয়; তারা ব্রাজিলের পতাকার ঠিক ওপরে সগর্বে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও।

Rangabali Brazil 1
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘনিয়ে এলেই দেশের আনাচে-কানাচে প্রিয় দলের পতাকা ওড়ানো বা রঙ করার প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু চর মোন্তাজের মতো দুর্গম চরাঞ্চলে মোবাইল টাওয়ারের কয়েকশ’ ফুট ওপরে উঠে এভাবে পতাকা টাঙানোর ঘটনা ইতোমধ্যেই পুরো জেলায় ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার ভরদুপুরে ব্রাজিলের তিন কট্টর সমর্থক নিজেদের জীবনের তোয়াক্কা না করে তরতরিয়ে উঠে যান ওই মোবাইল টাওয়ারের চূড়ায়। এরপর সেখানে তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পতাকা দুটি বেঁধে নেমে আসেন। দূর থেকে এখন তাকালেই মনে হচ্ছে যেন মেঘের কোল ঘেঁষে উড়ছে নেইমার-ভিনিসিউসদের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন।

এই ঘটনাটি চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তেমনি এই বিপজ্জনক কাণ্ড দেখে অনেকেই থমকে গেছেন।

স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের চটপটে ভাষায়, বিশ্বকাপের মূল যুদ্ধ মাঠে গড়ানোর আগেই রাঙ্গাবালীর আকাশে উড়তে শুরু করেছে ব্রাজিলের স্বপ্ন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল ফুটবল উন্মাদনাকে স্বাগত জানালেও, এভাবে বহুতল মোবাইল টাওয়ারে চড়ে পতাকা টাঙানোর মতো বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে তরুণদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আপাতত সেলেসাওদের এই ‘আকাশচুম্বী’ কাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে!