গলাচিপায় অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার অভিযোগ, পথে রোগীর প্রাণহানি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিষধর সাপের কামড়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরও অ্যান্টিভেনম ও প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান তিনি। তবে চিকিৎকরা বলছেন, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তা সামাল দেওয়ার মতো আইসিইউ বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাসপাতালে ছিলো না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং রোগীর স্বজনদের অবহিত ও সম্মতি নিয়েই অক্সিজেন দিয়ে দ্রুত পটুয়াখালী রেফার করা হয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে সাপে কাটার এই ঘটনা ঘটে। পরে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত জেলা সদরে রেফার করা হলে পথেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহতের নাম জাকির মৃধা (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। জাকির স্থানীয় এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

পরিবার জানায়, সকালে ঘরে বসে টেলিভিশন দেখার সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ জাকির মৃধার পায়ে কামড় দেয়। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকার পরও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সেটি প্রয়োগ করেননি। এমনকি ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে তড়িঘড়ি করে রোগীকে পটুয়াখালী রেফার করে দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে পটুয়াখালী নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

নিহতের বড়ো ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দিলে হয়তো আমার ভাইটাকে বাঁচানো যেতো। চিকিৎসক কেন ইনজেকশন বা প্রাথমিক সেবাটুকু না দিয়ে সরাসরি পটুয়াখালী পাঠিয়ে দিলেন, তা বোধগম্য নয়। আমরা এই অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা জানান, রোগী যখন হাসপাতালে আসেন তখন তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিলো। রোগীর রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি থাকায় কার্ডিয়াক ঝুঁকি তৈরি হয়। জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর যে ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তা সামাল দেওয়ার মতো আইসিইউ বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমাদের হাসপাতালে ছিলো না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং রোগীর স্বজনদের অবহিত ও সম্মতি নিয়েই অক্সিজেন দিয়ে দ্রুত পটুয়াখালী রেফার করা হয়।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন জানান, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো বলেই তাৎক্ষণিক অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকের এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো কি না এবং চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে চলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।