নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সদর উপজেলার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বিবি কুলসুমের (৩৭) বাড়ি উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য নরোত্তপুর গ্রামে।
পুলিশ জানায়, উপজেলার নরোত্তপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজি বাড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শহীদ উল্যার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কুলসুমের। অন্ধ শহীদ বেকার ছিলেন, তাই কুলসুম সেলাই কাজ করে পরিবারের খরচ চালাতেন। কুলসুম বীমা কোম্পানিতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেন। পরে তিনি সে টাকা শহীদের বাবার ঘর ঠিক করার জন্য দিয়ে দেন। এই বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।
পুলিশ আরও জানায়, শহিদ প্রায় সময় তার স্ত্রী সেলাই কাজ করতে গেলে বিদ্যুৎ বিলের অযুহাতে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। ২০১৮ সালে কুলসুমের বাবা শহিদ এবং কুলসুমের মধ্যে ঝগড়া থামাতে গেলে, শহিদ তার শ্বশুরের সামনে কুলসুমকে মা-বাবা নিয়ে গালাগালি ও মারধর করে। রেগে গিয়ে কুলসুম অন্ধ শহিদকে গরম তেলের কড়াইয়ে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ মারা যান।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে কুলসুমসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হয়। আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিবি কুলসুমকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার মা লিলি বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তিনি আরও বলেন, কুলসুমকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার সকালে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।