নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মা-মেয়েকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার আসামী মেহেরাজ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই মামলার প্রধান আসামী সদ্য বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের ওরফে মুন্সি মেম্বারকে সাত দিনের রিমান্ডের নেয়ার আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
বুধবার বিকেলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট্র আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট্র বেগম তানিয়া ইসলামের আদালতে আসামী মেহেরাজ হাজির করা হলেও তিনি ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবিন্দ প্রদান করেন। পরে বিচারকের নির্দেশে আসামী মেহেরাজকে নোয়াখালী জেল কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহ আলম জানান, মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বারকে আরো অধিদকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন। রিমান্ডের আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানী হবে।
এর আগে সোমবার রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরওয়াপদা ইউনিয়নের চারকাজী গ্রামের তালতলাতে আকতার হোসেনের টিনের চৌচালা ঘরে মেহেরাজ সিঁদ কেটে ঢোকে। এরপর দরজা খুলে দিলে মুন্সি মেম্বার ও হারুন ঘরে ঢোকে।
তারা প্রথমে তিন সন্তানের ঐ জননীর হাত-পা-মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। পরে মুন্সি মেম্বার ও হারুন দুইজন ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এসময় মেহেরাজ পাশের কক্ষে থাকা বারো বছর বয়সী পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে।
পুলিশ এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী আবুল খায়ের মুন্সি মেম্বার (৬৭) ও মেহেরাজ (৪৮) কে পৃথকস্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের দেয়া তথ্যে সিঁদ কাটায় ব্যবহৃত দা, কোদালসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ।
নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মূলত মা-মেয়েকে ধর্ষণ করার জন্য তারা পূর্ব পরিকল্পনা করে ঘরে ঢোকেন এবং ধর্ষণ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে চুরির ঘটনা সাজানোর জন্য যাওয়ার সময় গৃহবধূর কানের স্বার্ণের একজোড়া কানফুল, আরও কিছু স্বর্ণালংকার এবং নগদ সতের হাজার টাকা নিয়ে যায়।
পুলিশ এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করলেও হারুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।