দলবেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক গৃহবধূকে (৪০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণে যাবজ্জীবন সাজার পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার  রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র‌্যাবের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামির নাম মিন্টু ওরফে হেলাল। তিনি সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের মধ্য ব্যাগ্যা গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার দুপুরে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহিম চরজাব্বার থানায় সাংবাদিক সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। 

তিনি জানান, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই গৃহবধূকে মারধর করে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি তখন দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরের দিন ওই গৃহবধূর স্বামী বাদি হয়ে ৯ জনের নামে মামলা করেন। 

তদন্ত শেষে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিন মেম্বারসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  

পলাতক মিন্টু বিভিন্ন স্থান পরিবর্তন করে ও ছদ্মনামে গত পাঁচ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার হলো। 

তিনি আরও জানান, গত পাঁচ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস এ মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও একমাত্র পলাতক আসামি মিন্টুসহ  ছয় জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে 
জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিতরা হলেন- রুহুল আমিন, হাসান আলী বুলু, সোহেল, স্বপন, ইব্রাহীম খলিল, আবুল হোসেন আবু, সালাউদ্দিন, জসীম উদ্দিন, মুরাদ ও জামাল হেঞ্জু।

যাবজ্জীবন সাজা পাওয়ারা হলেন- হানিফ, মো. চৌধুরী, বাদশা আলম, মোশারফ, মিন্টু ওরফে হেলাল ও সোহেল।