সীমানা জটিলতায় সচল হয়নি ফেনীর বিলোনিয়া স্থল বন্দর

সীমানা জটিলতায় চাহিদামতো অবকাঠামো নির্মাণ না হওয়া, ভারতের পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে এক বছরেও সচল হয়নি ফেনীর পরশুরাম বিলোনিয়া স্থলবন্দর। এছাড়া সুযোগ-সুবিধা না থাকায় আমদানি-রপ্তানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

বন্দর দিয়ে ভারতে দুই একটি পণ্য রপ্তানি হলেও আমদানি নেই। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষও।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ায় অনেক দিনের পুরোনো শুল্ক স্টেশনকে ২০০৯ সালে স্থলবন্দর ঘোষণা করে সরকার। এরপর নির্মাণ হয় টার্মিনাল ভবন, ওয়্যারহাউস, ওপেন ইয়ার্ড, প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। 

গতবছরের মে মাসে উদ্বোধন হয় এই স্থলবন্দরটি। আশা ছিলো এই পথে উত্তরপূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। কিন্তু এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিমাণে সিমেন্ট রপ্তানি ছাড়া আর কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানিতেই ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেয়া যায়নি।

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী জানান, আমদানিকারকসহ যারা এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত তাদের যেসব সেবা পাওয়ার কথা ছিলো তার কিছুই এখানে নেই।

বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউজ সুপারিনটেনডেন্ট হাসান মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, বন্দর হিসেবে আর্থিক যে সুবিধা পাওয়ার কথা ছিলো তা এখনো পাওয়া যায়নি।

ফেনীর পরশুরাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু ইউসুফ মিন্টু বলেন, ১৯টি পণ্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আসার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র পেঁয়াজ আর মরিচ ছাড়া কিছুই এখান দিয়ে আসে না।

custom

এছাড়াও স্থলবন্দর এলাকায় থাকা-খাওয়াসহ সুযোগ-সুবিধার অভাবে পরিবহন শ্রমিকরাও এই পথ ব্যবহার করতে চান না।

বিশ্বের দীর্ঘতম সাগর সৈকতের শহর কক্সবাজার ভ্রমণে এই পথ ব্যবহার করতে পারেন উত্তরপূর্ব ভারতের পর্যটকরা। কিন্তু এনিয়ে পর্যটন কর্পোরেশনের কোন উদ্যোগ নেই। বর্তমানে এই পথে ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেন প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২০ জন।

অবশ্য সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে এই স্থলবন্দর প্রাণচঞ্চল করা সম্ভব বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক শাহীনা আক্তার।

তিনি বলেন, সুযোগ-সুবিধা স্থানীয়ভাবেও যদি কিছুটা বাড়ানো যায়, তাহলে আমদানি-রপ্তানি আগের চেয়ে বাড়বে।

পরশুরামের বিলোনিয়ার অপর প্রান্তে ত্রিপুরা শহরের নামও বিলোনিয়া। সেখান থেকে ট্রেনে সহজেই যাতায়াত করা যায় আসামসহ উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে।