ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় পড়া শুরু করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আলোচিত এ মামলার রায় পড়া শুরু হয়।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
এর আগে, টানা ১৭ কার্যদিবস পেপারবুক ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট ধার্য করেন।
পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও নিরাপত্তার উদ্বেগদীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায়ের দিন ধার্য হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নিম্ন আদালতের দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হাইকোর্টেও বহাল থাকবে এবং পরিবারটি পূর্ণ ন্যায়বিচার পাবে।
তবে ন্যায়বিচারের আশার পাশাপাশি সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শিরিন আক্তার জানান, মামলায় বাদি ও সাক্ষী হিসেবে পরিবারের সদস্যরা সরাসরি যুক্ত থাকায় এবং প্রভাবশালী মহলের নানা হুমকির কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অপরাধীদের সহযোগীরা যেকোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি সরকারের কাছে পরিবারের জন্য স্থায়ী ও জোরদার নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন নুসরাতের মা। এর জেরে ওই বছরের ছয় এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। ঘটনায় নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের করা মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। বিচারিক আদালতের সেই রায় অনুমোদনের জন্য নথি হাইকোর্টে এলে এবং আসামিরা আপিল করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ চূড়ান্ত রায় প্রদান করা হচ্ছে।
