ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অ্যালবিনো প্রজাতির ইঁদুরের খামার করে সাড়া ফেলেছেন খামারি নাসির উদ্দিন। এখন তার খামারে সাদা ইঁদুরের সংখ্যা তিন শতাধিক। এরই মধ্যে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তিনি ইঁদুর বিক্রি শুরু করেছেন।
শুরুতে এলাকার লোকজন বিষয়টি ভালোভাবে না নিলেও এখন অনেকেই নাসিরের মত ইঁদুরের খামারি হতে চান।
আখাউড়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন। ইউটিউব দেখে পাঁচমাস আগে ঢাকার কাঁটাবন থেকে সুইজারল্যান্ডের অ্যালবিনো প্রজাতির ১০টি সাদা ইঁদুর কিনে এনে খামার কাজ শুরু করেন তিনি। সেই ১০টি থেকেই এখন তার খামারে সাদা ইঁদুরের সংখ্যা তিন শতাধিক।
নাসিরউদ্দিন জানান, ইঁদুরগুলোকে গম, ভুট্টা, ধান,খাবার হিসাবে দেয়া হয়। এতে তার দৈনিক খরচ হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
এরইমধ্য বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তার খামারের ইঁদুর বিক্রি শুরু করেছেন বলে জানালেন নাসির।
তিনি আরও জানান, শুরুতে এলাকার লোকজন ভালোভাবে নেয়নি। নানাজনে নানা কথা শুনিয়েছে। নানারকম টিপ্পনীও শুনতে হয়েছে তাকে। অথচ এখন এলাকার অনেকেই তার খামার থেকেই ইঁদুর নিয়ে লালন-পালন করছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ল্যাবরেটরিতে রোগ নির্ণয়সহ পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এই অ্যালবিনো ইঁদুরের চাহিদা রয়েছে। ফার্মাগুলো নতুন ওষুধ ও ভ্যাকসিন প্রথমে গবেষণা পর্যায়ে ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে। এছাড়াও নানারকম জৈব-প্রযুক্তি ও জীনতাত্ত্বিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয় এ ইঁদুর।
ইঁদুরের খামার করতে আগ্রহীদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারলে সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা এলাকার সাধারণ মানুষের।