তামাক কোম্পানির প্রলোভনের ফাঁদে, আটকা পড়েছেন রাঙ্গামাটির লংগদুর চাষীরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তামাক চাষ করায় উজাড় হচ্ছে বন। নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা আর স্বাস্থ্য হারাচ্ছেন চাষীরা।
চাষীরা জানান, অন্য ফসলের চাষাবাদে সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে কোম্পানির দেয়া টাকায় তামাক চাষে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
পাহাড়ে ধানসহ যেসব ফসলে বেশি সেচ লাগে সেসব ফসল আবাদ করতে পারেন না চাষীরা। এই সুযোগে এগিয়ে আসে তামাক পণ্যের কোম্পানি। কম সেচের তামাক চাষে কৃষকদের ঋণ দেয় তারা, সেই টাকায় চাষ হয় তামাক।
রাঙ্গামাটি জেলার লংগদুতেও তামাকপণ্য কোম্পানির এই ঋণের জালে জড়িয়ে গেছেন অনেক কৃষক। ক্ষতিকর জেনেও জমিতে তামাক চাষ করেন তারা।
কৃষকরা জানেন তামাক চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। শরীরে বাঁধে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ। এমন রোগে ভুগছেন অনেক তামাক চাষী।
এক চাষী বলেন, তামাক চাষ ক্ষতিকর। যক্ষ্মা হয়, ক্যানসার হয়। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়। কিন্তু এটা ছাড়া বিকল্প না থাকার কারণে আমাদের বাধ্য হযে চাষ করতে হচ্ছে।
আরেক চাষী বলেন, সরকার যদি তাদেরকে অনুদান দেন তবে তামাক চাষ তারা করবেন না।
বন কর্মকর্তারা জানান, তামাক চাষে জমি নষ্টের পাশাপাশি উজাড় হয় বন। কারণ মাঠ পর্যায়ে গাছপালা কেটে জ্বালানি তৈরি করে শুকানো হয় তামাক। তাই তামাকের বদলে অন্য ফসল আবাদ করলে সহযোগিতা দেবে বন বিভাগ।
লংগদুর উল্টাছড়ি বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা এ এস এম মাহাবুব উল আলম বলেন, কৃষি বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো যদি সোচ্চার হয় আমরা তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করতে পারবো।
কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার কথা বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। জানান, কেউ বিকল্প ফসল আবাদ করলে তাকে প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা আছে।
লংগদুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি ঋণ বা অন্য কোনো ভাবে য অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে হয়তো তারা তামাক চাষ থেকে বিমুখ হতে পারে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে লংগদু উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। তবে বাস্তবে এই জমির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি বলে জানান কৃষকরা।
