কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাইফ মোহাম্মদ আলী। সেই রাতেই বাবাকে হারান তিনি। জামিন পেয়ে জানাজায় অংশ নিতে পারলেও এখনো আছেন জেলে।
পরিবারের দাবি, সাইফের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তাকে আটকে রাখা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র সাইফ মোহাম্মদ আলী। চলমান কোটা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করতে পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কালু হাজী সড়কের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
স্বজনরা জানান, এ সময় ছেলের অবস্থা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা সামছুল আলম। বুকে ব্যথা উঠলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
সাইফের মা তাহমিনা আক্তারের অভিযোগ, কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন তার ছেলে, তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলাও নেই। তবুও জোর করে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাইফের আইনজীবীও জানান, মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তার জামিনের চেষ্টা চলছে।
সদর থানার ওসি ইয়াছিন মজুমদার ফারুক বলছেন, নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় সাইফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোটা আন্দোলনে তার সক্রিয় থাকার প্রমাণ রয়েছে তাদের কাছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সাইফের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ছাত্রহত্যা, গণগ্রেপ্তার, মামলা, গুমের প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।