কুমিল্লায় কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

কুমিল্লায় প্রতিদিন বন্যার পানি কমছে। তবে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত (জ্বর-সর্দি, কাশি, ডাইরিয়া ও চর্ম) রোগ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এখন রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। আসন সংখ্যার তিন গুণ রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। রোগীদের অভিযোগ আছে পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়া নিয়ে। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী আছে, ততো ওষুধ সরবরাহ নেই। ওষুধের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডাইরিয়া রোগী রাখলেও চর্ম রোগী ভর্তি হচ্ছে না। তাই কুমিল্লা সদর হাসপাতালে বহির্বিভাগে ভিড় করতে দেখা গেছে শত শত রোগীকে। 

কুমিল্লার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, জেলার ১৪ উপজেলার বন্যায় কবলিত ১২৫টি ইউনিয়নে ২০৭টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানিয়েছে, জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। গোমতী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এরই মধ্যেই ভেসে উঠতে শুরু করেছে বন্যার ক্ষত।

কুমিল্লা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে, বন্যায় ১৪ উপজেলায় প্লাবিত কৃষিখাত, মাছের ঘের, প্রাণিসম্পদ, রাস্তাঘাট ও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৩২ হাজার ৬২ কোটি টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার বুড়িচং উপজেলায়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৫৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।