গাছে বেঁধে দুই যুবক পিটিয়ে দুই মাতোব্বর জেলে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাছ চুরির সন্দেহে দুই যুবককে গাছে পিটিয়ে রক্তাক্ত করায় মামলার পর নির্যাতনকারী দুই গ্রাম্য মাতোব্বরকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নির্যাতনের শিকার এক যুবকের স্ত্রী থানায় মামলা করলে পুলিশ ওই দিনই দুই মাতোব্বরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ও ইকরামুল হক।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ওই গ্রামের আব্দুস সালাম মিয়ার পুকুর থেকে মাছ চুরির সন্দেহে একই গ্রামের সামু সেন ও আরমান মিয়া নামের দুই যুবক গ্রাম্য বিচারে গাছে বেঁধে বেদম মারধর করা হয়। 

স্থানীয়রা জানান, গাছে বাঁধা অবস্থায় প্রচণ্ড মারধর করে দুই যুবককে রক্তাক্ত করা হয়। পরে নির্যাতনের শিকার দুই যুবকের সঙ্গে মাতোব্বররা সমঝোতায় গেলেও মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

ঘটনার সাত দিন পর নির্যাতনের শিকার সামু সেনের স্ত্রী পঞ্চমী রানী সেন বাদি হয়ে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

পাহাড়পুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ মাঝি জানান, গ্রেপ্তার হওয়া গ্রাম্য বিচারক আবদুল হাকিম ও ইকরামুল হক দুজন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাই এদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত দুই গ্রাম্য মাতবরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।