লক্ষ্মীপুরে অবাক কাণ্ড, ছেলে কুপিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে বাবার মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে নিজের ছোট ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখমের পর ছাদ থেকে লাফিয়ে সাবেক এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার পেশকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। 

নিহতের নাম নাছির আহমেদ। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পূর্ব এখলাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। নাছির লক্ষ্মীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন এবং অবসর গ্রহণের পর পরিবার নিয়ে গত সাত বছর ধরে বাঞ্চানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

স্থানীয়রা জানানয়, ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের ছোট ছেলে নিবিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকেন নাছির আহমদ। রক্তাক্ত অবস্থায় নিবির প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলে প্রতিবেশী মিজানুর রহমান স্বপন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এ সময় নাছির তাকেও কুপিয়ে জখম করেন। ঘটনা দেখে আরও একজন এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে নাছির অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং বিবস্ত্র অবস্থায় তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে লাফ দেন।

নিহতের ভাই মোশারফ হোসেন বলেন, আমার ভাই আগে কখনও মানসিক রোগে ভুগতেন না। হঠাৎ কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না। স্বজনরা জানান, গত রাতেও সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো। অসুস্থ বোধ করায় রাতে ছেলে নিবিরই বাবাকে ওষুধ এনে দিয়েছিলো। নাছিরের বড়ো ছেলে নাঈম একজন প্রতিবন্ধী। ঘটনার সময় নাছিরের স্ত্রী বড়ো ছেলেকে নিয়ে বাড়ির বাইরে ছিলেন।

প্রতিবেশী এক নারী আতঙ্কিত কণ্ঠে বলেন, নিবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় বের হতে দেখে স্বপন তাকে কাপড় দিতে গিয়েছিলো, কিন্তু নাছির তাকেও কুপিয়ে দিলো। এমন ভয়াবহ দৃশ্য আমরা আগে কখনও দেখিনি।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) অরূপ পাল জানান, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। তাদের মধ্যে নাছির আহমদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত নিবিরসহ দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক রাতের ব্যবধানে একটি সাজানো পরিবারে কেন এমন অন্ধকার নেমে এলো, সেই উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী।