দেশের তিন জেলায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজছাত্রী ও এক শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ, পিরোজপুর ও মেহেরপুরে এই সড়ক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এছাড়া লক্ষ্মীপুরে পুকুর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
একাত্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন-
পিরোজপুরে বাস-ইজিবাইক সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত, আহত চার
পিরোজপুর সদর উপজেলার খলিশাখালি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারিয়া আক্তার (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মারিয়ার মা ও ইজিবাইকের চালকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে পিরোজপুর-বরিশাল সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মারিয়া আক্তার পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং সদর উপজেলার হুলারহাট বানেশ্বরপুর এলাকার আবুল কালাম খানের মেয়ে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মারিয়া ও তার মা হাওয়া বেগম নানা বাড়ি তেজদাসকাঠি থেকে ইজিবাইকে করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। খলিশাখালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশাল থেকে পিরোজপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব ১১৪৮৬) সঙ্গে ইজিবাইকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অতনু হালদার জানান, আহতদের মধ্যে হাওয়া বেগম (৪৫) ও রাসেলসহ (৩০) দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর তাপস মণ্ডল জানান, ঘাতক বাসটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।
মেহেরপুরে ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষে চালক ও শিশু নিহত
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় ট্রাক ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইজিবাইক চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওলিনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মেহেরপুর সদর উপজেলার উত্তর শালিকা গ্রামের ইজিবাইক চালক আরিফ এবং আফরিন নামের এক শিশু।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার দাস জানান, ওলিনগর এলাকায় কুষ্টিয়াগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই চালক আরিফ মারা যান। এ সময় শিশুসহ আরও চার যাত্রী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আফরিনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও ট্রাক ও ইজিবাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে পুলিশ।
ঝিনাইদহে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শিতলি এলাকায় ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খারে পড়ে আলমগীর হোসেন (৩৫) নামের এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে।
হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান, সকালে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে উপজেলার শাখারীদহ বাজারে মুরগির বাচ্চা কিনতে আসছিলেন আলমগীর। পথে শিতলি এলাকায় পৌঁছালে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানসহ সড়কের পাশের খালে পড়ে যান।
স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ এমরান তন্বী জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুপুর ১২টার দিকে আলমগীরের মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুরে পুকুরে মিললো এক মরদেহ
এদিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পুকুর থেকে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের তোরাবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন। আরিফ মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পরিবার-সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোরাবগঞ্জ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আরিফ হোসেন মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোরেও তিনি তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি হোটেলে নাস্তা করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার ব্যবহৃত লুঙ্গি, জুতা ও গেঞ্জি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। খোঁজ নিতে গিয়ে পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন। তবে কী কারণে তিনি পুকুরে গিয়েছিলেন বা কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের কারও জানা নেই। এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম হলেও প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদুল আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।