লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোট ১৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ২৫ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১৫৯ জনকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা জেলার ছয়টি থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন থানা এলাকার যেসব স্পটে বখাটে তরুণ ও কিশোরদের অহেতুক আড্ডা ও উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানকে লক্ষ্য করেই মূল অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে প্রথম দফায় ১৮২ জনকে এবং পরবর্তীতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়।
থানাওয়ারি আটকের তালিকায় রয়েছে—লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৬৪ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রামগঞ্জ থানায় ২৪ জন, রায়পুর থানায় ২০ জন, কমলনগর থানায় ১৭ জন, রামগতি থানায় ১৩ জন এবং ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৩ জন। পরবর্তীতে আরও দুইজনকে আটক করা হলে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮৪ জনে।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আবু তারেক জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে বিভিন্ন অপরাধ ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর অপরাধে জড়িত না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে ১৫৯ জনকে মুচলেকা ও অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এসপি আবু তারেক আরও বলেন, কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা এবং সচেতন করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অনেক কিশোর অহেতুক বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলায় পুলিশি এই তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।