চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর হয়ে রায়পুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, এ নিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও কারিগরি সমীক্ষা চলছে। এক ধাপে সম্ভব না হলে দুই ধাপে হলেও রায়পুরে রেললাইন নেওয়ার জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ ও প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির একাদশ ও ডিপ্লোমা প্রথম বর্ষের নবীনবরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর হয়ে রায়পুর পর্যন্ত এই রেললাইনটা নিয়ে যেতে পারি। এখানে কিছু ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে, কারিগরি সমীক্ষা। আমরা আশা করছি, হয়তো এক ধাপে হতে পারে, নয়তো দুই ধাপে হলেও রায়পুরে যে রেললাইন, সেটা দৃশ্যমান করার জন্য আমরা প্রজেক্ট হাতে নেবো।
রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রায়পুরের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা বিস্তারে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকীর অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কাজী ফারুকী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে শিক্ষকতা শুরু করে ‘ঢাকা কমার্স কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেই রায়পুরের প্রত্যন্ত এলাকায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের শুরুতেই ফলাফল খারাপ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। শিক্ষার সঙ্গে চরিত্র ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, রায়পুরের সড়কগুলোর সংস্কার, উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা যাতে দেশ-বিদেশে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কাজী ফারুকীর ছেলে ও শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী মো. নূর-উল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ও রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভূঁইয়া, প্রফেসর কাজী ফারুকী কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
