লক্ষ্মীপুরে প্রকল্পের বিল আটকে রাখা এবং মালামাল পাস করে দেওয়ার বিনিময়ে সরাসরি দুই কোটি টাকা ঘুষ দাবির ভিডিও সোস্যালে ভাইরালের পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তর থেকে জারি করা অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার নাম মো. নুরুল আমিন। তিনি লক্ষ্মীপুর পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
পিডিবির জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও কোটি টাকার অনিয়মসংক্রান্ত সোস্যাল ও গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওচিত্র বিউবোর নজরে এসেছে। ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর শৃঙ্খলা পরিপন্থি হওয়ায় অভিযুক্ত প্রকৌশলীকে বিউবোর চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রায় আট মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি অডিও-ভিডিও ক্লিপ সোস্যালে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে প্রকল্পের ঠিকাদারি বিল, বিভিন্ন মালামাল গ্রহণ, ‘ক্রস আর্ম’ অনুমোদন ও অর্থ লেনদেন নিয়ে দর-কষাকষির কথোপকথন স্পষ্ট শোনা যায়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক প্রকৌশলীকে দৃঢ় ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘ছয় কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো, দেখি চেয়ারম্যান কী কয়!’ ভিডিওটির অপর অংশে কাজের মালামাল হিসাবের প্রসঙ্গে পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আত্মসাতের ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়, ‘পাঁচ কোটি টাকা থেকে আমাকে দুই কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’ এমনকি ভিডিওর একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের দৃশ্যও দেখা যায়।
তবে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, কণ্ঠস্বরের পরিচয়, ভিডিও ধারণের সময় ও স্থান এবং কথোপকথনে উল্লেখ করা অর্থের সঙ্গে বাস্তব কোনো লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পিডিবির সূত্র বলছে, তদন্তের পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, ভিডিও ক্লিপটি সোস্যালে নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিউবোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কিংবা ভেতরের যেকোনো অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিডিবি বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের বরখাস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লক্ষ্মীপুর পিডিবির প্রিপেইড মিটার লক করে হয়রানি, ট্রান্সফরমার ও নতুন সংযোগে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য এবং গ্রাহক ভোগান্তির একের পর এক পুরনো অভিযোগও নতুন করে সামনে আসছে। তবে আসা অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্বীকার করেছেন।
