কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করে ফেলেন দুই পুলিশ সদস্য। সেখানে ভারতীয় স্থানীয়দের হাতে তারা আটক হওয়ার পর বিজিবি ও বিএসএফের কার্যকর পদক্ষেপে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এক আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন- ব্রাহ্মণপাড়া থানার কনস্টেবল (কং/২১৬৬) রোহিত দেওয়ান এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন।
ঘটনার পটভূমি জানিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযানে যায় পুলিশ।
অভিযান পরিচালনাকালে এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ভুলবশত শূন্যরেখা পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েন। সে সময় স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং আটক করে। বিষয়টি জানতে পেরে সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে এএসআই মো. ইমরান হোসেন সেখানে গেলে ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকেও আটকে রাখে।
ঘটনাটি জানার পরপরই দুই পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অবিলম্বে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতায় প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ হয় এবং শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
উক্ত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম (এএসসি), দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপি কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন।