কোম্পানীগঞ্জে মিললো নতুন গ্যাসকূপ, উত্তোলন চলবে ২০ বছর

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন একটি অনুসন্ধান কূপে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’ নামের এই অনুসন্ধান কূপে মোট ৯৭ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত কূপটিতে ফ্লেয়ারিং বা আনুষ্ঠানিকভাবে আগুন জ্বেলে  গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এটি থেকে প্রতিদিন সাত থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, সরকার ও বাপেক্সের নিজস্ব অর্থায়নে নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ রিগ ব্যবহার করে গত আট জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু হয়। প্রায় তিন হাজার ২৮৯ মিটার গভীরতা পর্যন্ত সফল খনন শেষে ভূগর্ভের দুটি আলাদা জোনে এই গ্যাসের সন্ধান মেলে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, কূপটি থেকে আগামী ২০ বছর পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে, ভোক্তা পর্যায়ে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুল হাসান জানান, কূপে গ্যাসের পাশাপাশি তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ এবং ড্রিল স্টেম টেস্ট চালানো হবে।

এদিকে নতুন গ্যাসের আবিষ্কারে পুরো নোয়াখালী জুড়েই বইছে আনন্দের আমেজ। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, এই আবিষ্কার দেশের সামগ্রিক জ্বালানি খাতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের যে দীর্ঘদিনের দাবি—উত্তোলিত গ্যাস স্থানীয় বাসা-বাড়িতে দেওয়া, সেই বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক ও সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, কোম্পানীগঞ্জে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া নোয়াখালীবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। দেশের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে একে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে নতুন শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং স্থানীয়রা যেন এই সুফল পান তা নিশ্চিতের আহবান জানান তিনি।

এর আগে গত সাত অক্টোবর নোয়াখালীর সেনবাগের নবীপুর ইউনিয়নের বড়ো চারিগাঁও গ্রামে ‘সুন্দলপুর-৪’ নামের অপর একটি কূপে এক হাজার ৫৭৮ মিটার গভীরতায় গ্যাসের সন্ধান মেলে। সেই কূপ থেকে প্রতিদিন সাত মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে।

তারও আগে কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর এলাকায় একই কাঠামোর অধীনে সুন্দলপুর-১, সুন্দলপুর-২ ও সুন্দলপুর-৩ কূপ খনন করা হয়েছিলো। নতুন সন্ধান পাওয়া কূপটি একই ভূগর্ভস্থ কাঠামোর অংশ হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দলপুর সাউথ-১’। এছাড়া বেগমগঞ্জ-৩ ও বেগমগঞ্জ-৪ (ওয়েস্ট) থেকেও গ্যাস বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।