নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি পুকুর থেকে মাছ লুট, বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং নারীসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় জাকির হোসেন (৭৪) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিনগর গ্রামের ইসমাইল মৌলভী বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
এরই জেরে ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের ভোগদখলে থাকা ঘোষের দিঘিতে জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করেন। পুকুর থেকে আনুমানিক দুই লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা চড়াও হয়। মাছ ধরার প্রতিবাদ করায় বাদী মনছুর হাবিবকে মারধর করা হয় এবং প্রাণভয়ে তিনি বসতঘরে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্বরোচিত এই হামলায় জাকির হোসেনের দুই হাতের কবজি, হাঁটু ও গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। এ ছাড়া অপর একজনের হাতের আঙুল কেটে ফেলা হয় এবং এক নারীর শ্লীলতাহানি ও পরনের কাপড় টানাহেঁচড়ার ন্যক্কারজনক অভিযোগও করা হয়েছে। হামলাকারীরা শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বাড়িঘরের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং নির্মাণাধীন ভবনের সেন্টারিংসহ প্রায় ৬০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী ও জিনিসপত্র লুট করে।
আহতদের মধ্যে মনছুর হাবিবসহ দুজনকে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হওয়া বৃদ্ধ জাকির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সময় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়। এ সময় পুলিশ মাছ ধরার জাল ও মাছ রাখার ক্রেটসহ দুজনকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুজনকে আটক করে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরে স্ত্রী হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও রক্ষা পেলেন না স্বামী
দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ওপর উঠে গেল লরি, নিহত পাঁচ