রাতের আঁধারে বসতঘরে তালা দিয়ে আগুন, অগ্নিদগ্ধ পাঁচ

ঢাকার দোহারে রাতের আঁধারে একটি বসতঘরে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের ধীৎপুর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ পাঁচজন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

অগ্নিদগ্ধরা হলেন শেখ জুলহাস (৪৮), তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (৩৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৪) ও ভাতিজী তাবাসসুম (১০)। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

জুলহাস দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফেরার পর তিনি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় টাকা খাঁটিয়ে উপার্জন করেন বলে জানান আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা।

স্থানীয়রা জানায়, ভোররাত তিনটার দিকে জুলহাস তার ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার করেন। এসময় তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের মানুষ ছুটে এসে ঘরের বাইরে থেকে তালা দেখে দেয়াল ভেঙ্গে তাদের উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দোহার ফায়ার সার্ভিস। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু।

দগ্ধ জুলহাসের ভাই শেখ আনোয়ার জানান, আগুন থেকে বাঁচতে সংলগ্ন বাথরুমে ঝরনা ছেড়ে ভিজেও দগ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পায়নি পরিবারটি। তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার ৩-৪ দিন আগে একই বাড়িতে তার চাচাতো ভাইয়ের ঘরেও বাইরে থেকে তালা দেয়া হয়েছিল। সে ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে। আজ ভাই জুলহাসের বাড়িতে তালা বন্ধ করে আগুন দেয়া হয়েছে। দুইটি ঘটনাই একই লোকদের কাজ বলে অভিযোগ তার।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পাঁচ জনের মধ্যে দুইজন দগ্ধ হয়েছেন, বাকিরা ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়েছিল। দগ্ধদের মধ্যে শেখ জুলহাসের ৩ শতাংশ ও তার স্ত্রী ফাহিমার শরীরের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র জুলহাসকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে পাঁচটি ড্রাম ও ১২ ভোল্টের দুইটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে। ড্রামগুলোতে পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ এনে আগুন দেয়া হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধদের পরিবার দোহার থানায় একটি অভিযোগ করেছেন এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন। পারিবারিক বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।