নরসিংদীতে প্রাক্তন স্বামীর পেট্রোল ঢেলে দেওয়া আগুনে দগ্ধ চিকিৎসক লতা আক্তারের (২৭) মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার চারদিন পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া একটায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন মো. তরিকুল ইসলাম। একই ঘটনায় তিনদিন আগে এ হাসপাতালেই মারা যান লতার সাবেক স্বামী খলিলুর রহমান।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন লতা। তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। চিকিৎসকরা জানান, আগুনে তার ফুসফুস এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এর আগে, মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন ডা. লতা আক্তারকে দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। এসময় তিনি পুরো ঘটনা শোনেন এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার সর্বশেষ খোঁজ-খবর নেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক, হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক। এমন ঘটনায় আসলে কেউই লাভবান হয় না, শুধু নিজেদেরই ক্ষতি হয়। পেট্রোলের আগুনে পুড়ে যাওয়া আমাদের এই চিকিৎসকের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।’
গত রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নরসিংদী থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন ডা. লতা আক্তার। সাবেক স্বামী খলিলুর রহমান পেট্রোল ঢেলে ওই চিকিৎসকের গায়ে আগুন দিয়েছেন বলে জানান তিনি। স্ত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার পর তার সাবেক স্বামী নিজের গায়েও আগুন দেন।
লতার চাচা ফারুক মিয়া জানান, নিহত লতার লাশ হাসপাতালের প্রক্রিয়া শেষ করে বাড়ি নিয়ে আসা হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ভুক্তভোগী লতা আক্তার (৩২) জেলার রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়ন ব্রাহ্মনেরটেক গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকা গুলশান এলাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক। নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করতেন। অপর দিকে প্রাক্তন স্বামী খলিলুর রহমান (৪০) গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী গ্রামের আতর আলী বেপারীর ছেলে।
নরসিংদীর রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়েছি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় লতার মৃত্যু হয়েছে। আগুন দেওয়ার ঘটনার পর পর লতার পরিবারের পক্ষ থেকে খলিলুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।