ময়লার ভাগাড় থেকে উদ্ধার পটুয়াখালীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নবজাতকের পিতা-মাতার খোঁজে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন এক নারী দাবি করেছেন, ওই শিশু তার। দুই যুবকের সংঘবদ্ধ ধর্ষণে গর্ভবতী হয়েছিলেন। তাই প্রকৃত পিতা চিহ্নিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা হোক।
তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেছেন, মা দাবি করা ওই নারীরও ডিএন পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনিই তা প্রকৃত জন্মদাত্রী।
গত রোববার রহস্যজনক এই ঘটনা ঘটে। ওইদিন দুপুরে পটুয়াখালী শহরের একটি ক্লিনিকের পাশের ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতে গিয়ে নবজাতক শিশুর কান্না শুনতে পায় এক কিশোর।
এরপর জড়ো হয় আশেপাশের লোকজন। ডাস্টবিন থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে নেয়া হয় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি।
অজ্ঞাতনামা হিসাবে চিকিৎসা শুরুর পরদিন নবজাতকের পরিচয় দাবি করেন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক তরুণীর মা। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, ওই শিশুটির জন্ম হয়েছে তার মেয়ের গর্ভে।
চিকিৎসাধীন তরুণীর মায়ের দাবি, তার মেয়ে অসুস্থ বোধ করলে তাকে নিয়ে সদর উপজেলার একটি বাজার থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। পথে ইজিবাইকেই সন্তান প্রসব করে তার মেয়ে।
তবে শিশুটির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন চিকিৎসাধীন ওই নারীর মা।
আর শিশুটির মা দাবি করা ওই নারী বলেন, নয়মাস আগে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাঈম ও সাইফুল নামে দুই যুবক তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা প্রকাশ করলে তার বাবা-মা ও ছোট বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় কাউকে কিছু বলি নাই।
তবে এখন সন্তানের জন্মদাতা শনাক্ত করে তাকে স্বামী হিসাবে পেতে আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই নারী।

তবে মা দাবি করলেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মানতে রাজি নন। অজ্ঞাতনামা ওই শিশুর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদ শামীম।
ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করে এনে হাসপাতালে মায়ের আদরে দেখভাল করা নিঃসন্তান নারী রীনা বেগম চাচ্ছেন ওই শিশুটিকে দত্তক নিয়ে বড় করে তুলতে।
নবজাতক নিয়ে রহস্যজনক এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার হাসপাতালে ওই শিশুকে দেখতে যান পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।
তিনি বলেন, এই শিশু চিকিৎসা চলবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অধীনেই। আর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে।
তবে শিশুটিকে উন্নয়ন চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে ওই নারীকে ধর্ষণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগে গ্রেপ্তার চার, মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও