গত দুই-তিন বছরে দখল হয়ে গেছে সাভারের বিরুলিয়ার কালিয়াকৈর বনাঞ্চলের এক তৃতীয়াংশ। এই বনের ৯০ একরেরও বেশি অংশ পাহারায় গড়ে থাকেন মাত্র একজন প্রহরী।
বন প্রহরীরা বলেন, এতে গাছ চুরিসহ বনকেন্দ্রিক অপরাধ ঠেকানো, অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। আর পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে বন রক্ষা করা যাবে না। দরকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন।
রাজধানীর উপকণ্ঠেই সাভারের বিরুলিয়ায় বন বিভাগের কালিয়াকৈর বনাঞ্চল। প্রায় ৭০০ একরের এই বনাঞ্চলে আছে গর্জন, শাল, বহেরা, আকাশমনি, হরিতকিসহ হরেক প্রজাতির গাছ।
বন বিভাগের পাশাপাশি এই বনাঞ্চল দেখভাল করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সাথে যুক্ত স্থানীয় মানুষ। তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে প্রতিনিয়তই দখল হয়ে যাচ্ছে বন। রাতারাতি গড়ে উঠছে স্থাপনা।
অবশ্য এনিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে রাজি হননি বন বিভাগের সাব-বিট কর্মকর্তা মহিদুর রহমান।
ভূমি দস্যু আর গাছ খেকোদের হাত এই সরকারি বনভূমি রক্ষায় বনপ্রহরীর সংখ্যা মাত্র ৯ জন। তাদের কাছেও অনেক সময়ই থাকে না প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গুলি। এ অবস্থায় বনদস্যুদের মারধরের শিকার হন তারা।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান, শুধু বনরক্ষী দিয়ে এই বিশাল বনাঞ্চল রক্ষা করা সম্ভব নয়। এজন্য দরকার অংশীদারিত্বমূলক বনায়ন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিরুলিয়ার কালিয়াকৈর বনাঞ্চল রক্ষায় সবার আগে দরকার বন বিভাগ আর প্রশাসনের কঠোর অবস্থান।