কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ৯টি দান বাক্স খুলে এখন পর্যন্ত ২৭ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গণনা চলছে। ধারনা করা যাচ্ছে, এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।
শনিবার সকালে দান বাক্সগুলো খুলে টাকাগুলো পাওয়া গেছে। এতে নগদ টাকা ছাড়াও বিদেশি মুদ্র, স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।
সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মসজিদ পরিচালনার কমিটির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দান বাক্সগুলো খোলা হয়। পরে বস্তার টাকাগুলো মসজিদের দুই তলার মেঝেতে রেখে গণনার কাজ চলছে।
টাকা গণনার কাজে ব্যাংক কর্মকর্তা, এতিমখানার শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ দুই শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছেন।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর খোলা হয়েছিল পাগলা মসজিদের ৯টি দান বাক্স। সেখানে মিলেছিল ছিল কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এবার ২৭ বস্তা টাকা হওয়ায় টাকার পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন রূপালি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারী, মসিজিদ কেন্দ্রিক এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষাথী, পুলিশ, আনসারসহ দুই শতাধিক মানুষ।
কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম প্রান্তে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে তিন একর ৮৮ শতক জায়গা নিয়ে দৃষ্ঠিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্সের অবস্থান। সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট তিন তলা পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। এ মসজিদকে ঘিরে মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। এ মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়- এ বিশ্বাস থেকেই পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন। অনেকে রাতে গোপনে এসে এ মসজিদে দান করেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, পাগলা মসজিদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। টাকা গণনা থেকে শুরু করে সে টাকাগুলো ব্যাংকে নেয়ার কাজটি কঠোর নিরাপত্তায় করা হয়ে থাকে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পাগলা মসজিদকে ঘিরে দেশ বিদেশের মানুষের অনুভূতি কাজ করে। তাই সব ধর্মের মানুষ এখানে দান করে থাকেন। দানের এ টাকা দিয়ে শত কোটি টাকার একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণ করা হবে। অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতে এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নিমার্ণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার মসজিদ, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের চিকিৎসা খাতে অনুদান দেয়া হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
প্রায় বাংলার ১২ ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খানের আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিলকদর পাগলা নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ আদায় করতেন। তিনি মারা গেলে ভক্তরা সেখানে মসজিদটি নিমার্ণ করেন। জিলকদর পাগলার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।