কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নিল রণক্ষেত্রে। বরযাত্রীর গাড়ি আটকে 'মিষ্টি খাওয়ার চাঁদা' দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বরসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিয়ের সাজে কনে বাড়ি যাওয়ার পথে বরের এমন করুণ পরিণতি এবং রণক্ষেত্রের মতো এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকা জুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে ঘটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে আনন্দ-উৎসবে ভেসে বরযাত্রীর একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়িটি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধিতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক পথ আটকে দাঁড়ায় এবং মিষ্টি খাওয়ার বাহানায় জোরপূর্বক টাকা দাবি করে। এতে বরপক্ষের লোকেরা প্রতিবাদ জানালে মুহূর্তেই বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুতই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মতো হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের এই তাণ্ডবলীলায় বর মো. হানিফ এবং তাঁর বাবা হবি মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ইটের আঘাতে রক্তাক্ত ও আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণ ঘিরে দুই পক্ষের মুখে শোনা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। ধিতপুর বড়বাড়ি এলাকার মো. কাজল চাঁদা দাবির কথা বেমালুম অস্বীকার করে দাবি করেন, বাজারে বরযাত্রীর গাড়ির কারণে জট লেগেছিল। সেই যানজট ছাড়ানো নিয়ে এক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে বরপক্ষের ঝগড়া থামাতেই নাকি স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছিলেন, তখনই নাকি মারামারি বাঁধে এবং তাদের পক্ষের ১৫-১৬ জন আহত হন।
অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন পাল্টা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, কাজলের ভাই-ভাতিজারা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গাড়ি থামিয়ে মিষ্টি খাওয়ার নামে চাঁদা দাবি করে। সেই বখাটেদের আবদার না মানাতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, যার বলি হতে হয়েছে বরসহ তাদের অন্তত ৩৫ জন মানুষকে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
