মানুষের কটু কথায় ভুল পথে পা বাড়ালো তরুণী

রাজবাড়ীতে পদ্মা নদী থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ওই তরুণীর এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, এইচএসসি পাশের পর ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশায় ছিলেন। এ নিয়ে শিকার হয়েছিলেন আশপাশের মানুষ ও আত্মীয়দের কটু কথারও। এমন অবস্থায় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার পদ্মা নদী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই তরুণীর নাম পিউ কর্মকার (২০)। তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ড বিনোদপুর গ্রামের কৃষ্ণপদ কর্মকারের মেয়ে। পিউ রাজবাড়ী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। 

মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে ওই তরুণী লিখেছেন, ‘গুচ্ছ আমার শেষ ভরসা ছিল। জানি না কবে রেজাল্ট দিবে। পরীক্ষাও মোটামুটি হয়েছিল একটা আশা ছিল কিন্তু আমার ভাগ্য সেই আশাটাও পূরণ করতে দিল না। ৫টা অপশন থাকে তার মধ্যে আমি বায়োলজি আর ইংরেজি এর বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছিলাম ভুল করে আজকে সেটা দেখলাম। কিন্তু আমি উত্তর করেছিলাম বাংলার। আমার সব স্বপ্ন শেষ।......আমার ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল মেডিকেল অ্যাডমিশন এর প্রিপারেশন নেওয়াও শুরু করি কিন্তু মেডিকেলেও বসতে পারি না। এটা থেকেও বিশাল একটা ধাক্কা খাই। অনেক ভেঙে পড়েছিলাম তাও হাল ছাড়ি নাই।......

তিনি আরও লেখেন, এই সব আর আমি নিতে পারতেছি না।.....অনেক মানুষ অনেক আত্মীয় এর অনেক কথা শোনা লাগছে। .....আমি আমার পাশে কাউকে পাই নাই। সব থেকে প্রয়োজন ছিল যাকে, যাকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম তাকেও আমি আমার পাশে পাই নাই।... আমার জীবনটা এখানেই থেমে গেল।’

ওই নোটে পিউ লিখেছেন, ‘মায়ের কাছে গিয়ে মাঝে মধ্যে কাঁদতাম মাও বুঝে নাই আমাকে। আমি একটা বোঝা সবার কাছে।.....আমি আমার এই জীবনটা আর নিতে পারছি না। আমারে মাফ করে দিও সবাই। এভাবে দম বন্ধ করে বাঁচতে পারতেছি না আর।’

পিউ কর্মকারের  সহপাঠীরা বলেন, ‘পিউ এইচএসসি পরীক্ষার পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় সে একটি বিশ্ববিদ্যালয়েও সুযোগ পাইনি। এছাড়া গুচ্ছ কলেজে ভর্তি পরীক্ষাতেও সে কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি। যে কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু সে বিষয়টি এই পর্যায়ে নিয়ে যাবে আমরা ভাবিনি।’

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ সাইফুল বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।