গাজী টায়ারস ভবনে মেলেনি জীবিত বা মৃত মানুষের অস্তিত্ব

নারায়গঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্বৃত্তের আগুনে বিধ্বস্ত গাজী টায়ার্সের ছয় তলা ভবনের কোথাও আপাতত জীবিত বা মৃত কোনো মানুষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা জেলা প্রশাসন গঠিত আট সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে  ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর ফায়ার সার্ভিসের লেডার মেশিনের মাধ্যমে ভবনের অবকাঠামোসহ প্রতিটি তলার ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এই কথা জানান।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রাকিব আহসান জানান, ভবনটির চার, পাঁচ ও ছয় তলার ছাদের বেশ কিছু অংশ ধ্বসে তিন তলার ছাদের উপর পড়েছে। যে কারণে দুই তলা থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ভেতরে তল্লাশি করা যায়নি এবং এই মূহূর্তে ভেঙে ফেলাও সম্ভব নয়।

তবে ফায়ার সার্ভিসের বৃহত্তর ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক জানান, উপরের তলাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শুধু নিচ তলার বেজমেন্টে কোনো মরদেহ আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে নিখোঁজদের সন্ধানে সোয়া তল্লাশি শুরু হয়েছে। 

এসময় বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট হামিদুর রহমান, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান মাহমুদ রাসেল, গণপূর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ছাইফুল ইসলাম, কলকারখানা অধিদপ্তর উপ মহাপরিদর্শক রাজীব চন্দ্র ঘোষ, তিতাসের উপ মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মঞ্জুর আজিজ মোহন, পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্র নাথ বর্মণসহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

রোববার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজী টায়ারস কারখানায় কয়েকশ’ লোক ঢুকে লুটপাট শুরু করে। খুলে নিয়ে যাওয়া হয় ভারী মেশিনও। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ভবনটির নিচতলায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

মুহূর্তে আগুন পুরো ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা, আদমজী ইপিজেড, আড়াইহাজার, নরসিংদী, কাঞ্চন, হাজীগঞ্জ, ঢাকার সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় ২১ ঘণ্টার চেষ্টার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি,  শিল্প পুলিশ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ১২৯ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করেছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অপেক্ষায় শত শত পরিবার। বলা হচ্ছে, সংঘবদ্ধ লুটপাটের পর কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া পৌনে দুইশ’ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। 

কারখানাটির মালিক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী৷ রোববার ভোরে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি। 

গ্রেপ্তারের খবর তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে টায়ার প্রস্তুতকারী কারখানাটির অদূরে একটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। এ ঘোষণার পর কয়েকশ’ মানুষ জড়ো হন কারখানাটির সামনে, শুরু হয় লুটপাট।