গাজীপুরের প্রায় তিন হাজার শিল্প কলকারখানার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি বাদে প্রায় সব কারখানাই খোলা রয়েছে। সব দাবি মেনে নেওয়ায় শ্রমিকরা সকাল থেকে খুশি মনে দলে দলে কাজে যোগ দিয়েছেন। এখন উৎপাদন চলছে পুরোদমে।
বুধবার সকালে সরেজমিন, বিভিন্ন কারাখানায় এমন চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া কারখানা এলাকায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কাজ করেছে যৌথ বাহিনী। শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজেপির সদস্যদের টহল দিতেও দেখা গেছে।
গাজীপুরের প্রায় তিন হাজার কারখানায় কাজ করেন প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক। কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে ও মাস শেষে বেতন-ভাতা চান।
অপরদিকে, মালিক- কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক দিনের আন্দোলন এবং তারও আগে সরকার পতনের আন্দোলনকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এবার তা পুষিয়ে নিতে চান অতিরিক্ত কাজের মধ্য দিয়ে। সেই কাজের পারিশ্রমিক দিতেও প্রস্তুত তারা।
তবে এর মধ্যে নগরের ছয়দানা এলাকার একটি পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিক বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে তা স্বাভাবিক হয়।
অন্যদিকে, জেলার শ্রীপুরে একটি কারখানায় ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুইটি গ্রুপের মধ্যে লাঠিসোটা ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এছাড়াও নানা সঙ্কট, অস্থিতিশীলতার কারণে কয়েক দিন আগে জেলায় ১৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেসব কারখানার অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। কোনোটির আংশিক খুলেছে।
পোশাক কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের সরকার নিতুর সঙ্গে।
তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া সব মেনে নেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও বেশ কিছু পোশাক কারখানার বেতন পরিশোধ করার সুনির্দিষ্ট দিন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কোনো কোনো কারখানা এখনও খুলে দেওয়া হয়নি। আবার গত কয়েক দিনের আন্দোলনে অনেক শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
তার দাবি, কোনো কোনো কারখানার মালিক বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে ইচ্ছে করেই শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছেন। এসব বিষয়ের রাষ্ট্রীয়ভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
গাজীপুরের স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান ও বিজিএমই’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কারখানার ক্ষতি করছে। বাধ্য হয়ে পোশাক খাতের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমরা নিজস্ব ব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি। এই শিল্প রক্ষা করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠিন হতে হবে। দেশি-বিদেশি নানা চক্র এই শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। শিল্পকে বাঁচাতে না পারলে আমাদের দেশও পিছিয়ে যাবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম শিল্প কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে কোথাও কোনো ঝামেলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির কারণে জেলার ১৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলোর কয়েকটি আজও খোলেনি। আবার কয়েকটি আংশিক খোলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই একদিনের মধ্যে সেসব কারখানাও খোলা হবে।