মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিতে আসা গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য তাদের দোষ স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আদালতে তাদের জবানবন্দি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ (২৫) ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেনকে (২৯)।
এর আগে, সোমবার রাতে নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর (১৬) মা বাদি হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে এক দম্পতি আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জ শহরে পৌঁছালে তাদের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তারা মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে আশ্রয় নেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আবু সাঈদ ও শাহাদাত হোসেন তাদের কাছে এসে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে স্বামীকে নিচে রেখে ওই গৃহবধূকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ধর্ষণ করেন।
তারা ভোরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহল পুলিশের সহায়তায় বিষয়টি মৌখিকভাবে মানিকগঞ্জ সদর থানায় জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে ডেকে আনে। এ সময় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ধর্ষণের দায় স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির জন্য হাজির করা। সেখানে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সজীব চৌধুরী জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী গৃহবধূ সুস্থ হলে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেবেন।
অপরদিকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানিয়েছেন, ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওই দুই আনসার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।