মানিকগঞ্জের পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাবি ও দেড় বছর বয়সী ভাতিজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন অভিযুক্তের বড়ো ভাইও।
শনিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুস ছালামের স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) এবং তাদের দেড় বছর বয়সী শিশুপুত্র আসওয়াদ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছোট ভাই ইউসুফ আলী (৩৫) পলাতক রয়েছেন। গুরুতর আহত বড়ো ভাই আব্দুস ছালামকে (৪০) উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ছালাম মোল্লা ও তার ছোট ভাই ইউসুফ মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিলো। শনিবার রাত ১০টার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে এসব নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইউসুফ উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছালামের ঘরে ঢোকেন। সেখানে তিনি ভাবি আমেনা বেগম ও তার কোলে থাকা শিশু আসওয়াদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে ছালাম এগিয়ে এলে ইউসুফ তাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালান এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

পরে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এলে ইউসুফ পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ছালামকে উদ্ধার করে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দা ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। সকালে নিহত মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইউসুফ পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
