দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: তদন্তের আগেই ‘ভোলবদল’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ডুবে ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার শোক এখনও কাটেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই দুর্ঘটনাস্থলের ‘ভোলবদল’ করে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতারাতি তিন নম্বর ঘাটের জরাজীর্ণ অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামত করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে, যাকে ‘প্রমাণ আড়াল’ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন তারা। 

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মায় তলিয়ে যায় বাসটি। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা। নিখোঁজ ইটভাটা শ্রমিক রিপন আলীর সন্ধানে শুক্রবারও পদ্মায় চিরুনি অভিযান চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারীরা।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, রাত হওয়ায় শুক্রবার অভিযান সাময়িক স্থগিত থাকলেও উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। শনিবার ভোরে পুনরায় তল্লাশি শুরু হবে।

এদিকে শুক্রবার সরেজমিন, সকাল থেকে সারাদিন ঘাট এলাকায় ছিলো উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। একটু পর পর তারা স্পিডবোর্ড নিয়ে নদীতে মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। আবার ডুবুরি দল মাঝে মধ্যেই ডুব দিয়ে দেখছে পানির নিচে কিছু রয়েছে কিনা। 

দুর্ঘটনার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিলো ঘাটের আকাশচুম্বী উঁচু অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং পন্টুনে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী (ব্যারিয়ার) না থাকা (গত ১৫ মার্চ এনিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একাত্তর- দেখতে এখানে ক্লিক করুন)। অথচ তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সারারাত কাজ করে সেই উঁচু ও সরু সড়কটিকে মহাসড়কের মতো চওড়া ও ঝকঝকে করে মেরামত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মোল্লা ও আরিফুল ইসলামের মতে, তদন্তে দায় এড়াতেই এই ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ দেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সড়কে ও নৌপথে যান চলাচলে বড় পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে। তবে তদন্তের আগে তড়িঘড়ি সংস্কারের বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, কেবল সড়ক মেরামত নয়, বাসের ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং ঘাটে সিসি ক্যামেরা ও জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করলেই ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হবে।