রাজবাড়ীতে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র এক দিন পরএক কলেজছাত্রের হাত-পা বাঁধা ও দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, ওই যুবককে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দিয়ে আলামত ও পরিচয় গোপনের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমাড়ি এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম আসাদুল ইসলাম (২২)। তিনি বিলমানুষমাড়ি গ্রামের শাজাহান মণ্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দির মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। আসাদুল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি আসাদুল। রাত গভীর হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কালুখালী থানায় জানানো হয়। সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন সূর্যদিয়া মাদ্রাসার পাশে বিলমানুষমাড়ি বিলের একটি পাটক্ষেতের ভেতর আসাদুলের হাত-পা বাঁধা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি উদ্ধার করে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আলিমুজ্জামান দাবি করেছেন, নিহত আসাদুল ইসলাম সংগঠনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নাকি অন্য কোনো শত্রুতা রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা ওই যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছি। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর আলামত নষ্ট করতে মরদেহটি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
